অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : প্রশ্নমান-1
অধ্যায় : ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
1. দক্ষিণ ভারতের কোথায় ইংরেজরা সেন্ট জর্জ দুর্গ বানিয়েছিল?
➛ দক্ষিণ ভারতের মাদ্রাজপটনম গ্রামে ইংরেজরা, সেন্ট জর্জ দুর্গ বানিয়েছিল।
2. মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অপর নাম কী ছিল?
➛ মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অপর নাম ছিল সেন্ট জর্জ দুর্গ প্রেসিডেন্সি।
3. মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির কয়টি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল?
➛ মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির দুটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল।
4. গ্রীষ্মকালে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির প্রশাসনিক কেন্দ্র কোথায় থাকত?
➛ গ্রীষ্মকালে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির প্রশাসনিক কেন্দ্র থাকত ওটাকামুন্দে।
5. বোম্বাই প্রেসিডেন্সির সূত্রপাত হয়েছিল কোন বাণিজ্যিক ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে?
➛ সুরাটের বাণিজ্যিক ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে বোম্বাই প্রেসিডেন্সির সূত্রপাত হয়েছিল।
6. প্রথমে বোম্বাই প্রেসিডেন্সির নাম কী ছিল?
➛ প্রথমে বোম্বাই প্রেসিডেন্সির নাম ছিল পশ্চিম প্রেসিডেন্সি।
7. পূর্ব ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানি কোন প্রেসিডেন্সি তৈরি করেছিল?
➛ পূর্ব ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানি কলকাতা প্রেসিডেন্সি তৈরি করেছিল।
৪. কবে ব্রিটিশ কোম্পানি বাংলার নিজামতের অধিকার পায়?
➛ 1772 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ কোম্পানি বাংলার নিজামতের অধিকার পায়।
9. কলকাতা প্রেসিডেন্সির অপর নাম কী ছিল?
➛ কলকাতা প্রেসিডেন্সির অপর নাম ছিল ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ প্রেসিডেন্সি।
10. প্রেসিডেন্সিগুলি কী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত?
➛ প্রেসিডেন্সিগুলি আলাদা আলাদা পরিষদ বা কাউন্সিল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত।
11. প্রেসিডেন্সিগুলির সর্বোচ্চে কে থাকতেন?
➛ প্রেসিডেন্সিগুলির সর্বোচ্চে থাকতেন গভর্নর জেনারেল।
12. গভর্নর জেনারেল কার কাছে দায়বদ্ধ থাকতেন?
➛ 'গভর্নর জেনারেল লন্ডনের পরিচালক গোষ্ঠী বা 'Council of Directors'-এর কাছে দায়বদ্ধ থাকতেন।
13. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজের নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কোন আইন পাসের ব্যবস্থা করেছিল?
➛ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজের নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট রেগুলেটিং আইন পাসের ব্যবস্থা করেছিল।
14. প্রথম রেগুলেটিং আইন কবে পাস হয়?
➛ 1773 খ্রিস্টাব্দে প্রথম রেগুলেটিং আইন পাস হয়।
15. 1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং আইনের একটি শর্ত উল্লেখ করো।
➛ 1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং আইনে বাংলার গভর্নরকে 'বাংলার গভর্নর জেনারেল' নামে অভিহিত করা হয়।
16. 1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং আইনের একটি ত্রুটি লেখো।
➛ 1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং আইনে সুপ্রিমকোর্টের এক্তিয়ার ও ক্ষমতা স্পষ্টভাবে উল্লিখিত ছিল না।
17. পিটের ভারত শাসন আইন কবে পাস হয়?
➛ 1784 খ্রিস্টাব্দে পিটের ভারত শাসন আইন পাস হয়।
18. পিটের ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
➛ পিটের ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল 1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং আইনের ত্রুটিগুলি দূর করা।
19. পিটের ভারত শাসন আইনের একটি শর্ত উল্লেখ করো।
➛ পিটের ভারত শাসন আইনে স্থির হয় বাংলার গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলের সদস্য চারজনের পরিবর্তে তিনজন হবেন।
20. পিটের ভারত শাসন আইন পাসের সময় ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
➛ পিটের ভারত শাসন আইন পাসের সময় ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইলিয়াম পিট।
21. কোন আইনে ব্রিটিশ কোম্পানির ওপর গভর্নর জেনারেলের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়?
➛ পিটের ভারত শাসন আইনে ব্রিটিশ কোম্পানির ওপর গভর্নর জেনারেলের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
22. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভকরে?
➛ 1765 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে।
23. বাংলায় কবে দ্বৈত শাসনব্যবস্থার অবসান হয়?
➛ 1772 খ্রিস্টাব্দে বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থার অবসান হয়।
24. কোন গভর্নরের সময় দ্বৈত শাসনের অবসান হয়?
➛ গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় দ্বৈত শাসনের অবসান হয়।
25. কোন গভর্নরের সময় সরকারি কোশাগার মুরশিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়?
➛ গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় সরকারি কোশাগার মুরশিদাবাদ থেকে কলকাতার স্থানান্তরিত হয়।
26. হেস্টিংসের সময় রাজস্ব তদারককারী কর্মচারীরা কী নামে পরিচিত ছিল?
➛ হেস্টিংসের সময় রাজস্ব তদারককারী কর্মচারীরা কালেক্টর নামে পরিচিত ছিল।
27. হেস্টিংস বাংলাকে কয়টি জেলায় বিভক্ত করেছিলেন?
➛ হেস্টিংস বাংলাকে 35টি জেলায় বিভক্ত করেছিলেন।
28. ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় সদর দেওয়ানি আদালত কোথায় অবস্থিত ছিল?
➛ ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় সদর দেওয়ানি আদালত কলকাতায় অবস্থিত ছিল।
29. ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় সদর নিজামত আদালত কোথায় অবস্থিত ছিল?
➛ ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় সদর নিজামত আদালত মুরশিদাবাদে অবস্থিত ছিল।
30. ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় জেলার প্রধান পুলিশ কর্মচারীকে কী বলা হত?
➛ ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় জেলার প্রধান পুলিশ কর্মচারীকে বলা হত ফৌজদার।
31. ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় শহরের শান্তিরক্ষার দায়িত্ব ছিল কার হাতে?
➛ ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় শহরের শান্তিরক্ষার দায়িত্ব ছিল কোতোয়ালদের হাতে।
32. লর্ড কর্নওয়ালিশের আমলে সদর নিজামত আদালত কোথায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল?
➛ লর্ড কর্নওয়ালিশের আমলে সদর নিজামত আদালত মুরশিদাবাদ থেকে কলকাতার স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
33. কর্নওয়ালিশের সময় জেলার দেওয়ানি আদালতে কারা বিচারকার্য সম্পাদন করতেন?
➛ কর্নওয়ালিশের সময় জেলার দেওয়ানি আদালতে 'জজ' উপাধিধারী কর্মচারীরা বিচারকার্য সম্পাদন করতেন।
34. কে 'নরহত্যাকে' রাষ্ট্রীয় অপরাধ বলে গণ্য করেন?
➛ লর্ড কর্নওয়ালিশ 'নরহত্যাকে' রাষ্ট্রীয় অপরাধ বলে গণ্য করেন।
35. কর্নওয়ালিশের সময় থানার কার্যকলাপের ওপর কারা নজরদারি করত?
➛ কর্নওয়ালিশের সময় থানার কার্যকলাপের ওপর নজরদারি করত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা।
36. লর্ড কর্নওয়ালিশের সংস্কারের একটি ত্রুটি লেখো।
➛ লর্ড কর্নওয়ালিশ প্রবর্তিত বিচারব্যবস্থা ছিল ব্যয়বহুল ও জটিল।
37. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক কোন তত্ত্বের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন?
➛ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক উপযোগিতাবাদ তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
38. কে নিম্ন আদালতগুলিতে স্থানীয় ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন?
➛ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক নিম্ন আদালতগুলিতে স্থানীয় ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
39. কে ভারতীয়দের বিচারক পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন?
➛ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ভারতীয়দের বিচারক পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন।
40. কার আমলে ইন্ডিয়ান পেনাল কোড (IPC) প্রবর্তিত হয়?
➛ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিষ্কের আমলে ইন্ডিয়ান পেনাল কোড (IPC) প্রবর্তিত হয়।
41. কার আমলে প্রতিটি জেলায় একটি করে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত স্থাপিত হয়?
➛ ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে প্রতিটি জেলায় একটি করে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত স্থাপিত হয়।
42. কবে কলকাতার সুপ্রিমকোর্টের বিচারক সংখ্যা চারজনের পরিবর্তে তিনজন করা হয়?
➛ 1797 খ্রিস্টাব্দে কলকাতার সুপ্রিমকোর্টের বিচারক সংখ্যা চারজনের পরিবর্তে তিনজন করা হয়।
43. মাদ্রাজে সুপ্রিমকোর্ট কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
➛ 1801 খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজে সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।
44. বোম্বাইয়ে কবে সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়?
➛ 1823 খ্রিস্টাব্দে বোম্বাইয়ে সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।
45. কবে কর্নওয়ালিশ কোড প্রবর্তিত হয়?
➛ 1793 খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিশ কোড প্রবর্তিত হয়।
46. 'আইনের শাসন' প্রবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
➛ 'আইনের শাসন' প্রবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আইনের চোখে সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
47. কবে সিন্ধু প্রদেশে আধুনিক ধাঁচে পুলিশি ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়?
➛ 1843 খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু প্রদেশে আধুনিক ধাঁচে পুলিশি ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
48. ব্রিটিশ আমলে কাদের ভারতীয়দের 'সামরিক জাতি' আখ্যা দেওয়া হয়েছিল?
➛ জাঠ, রাজপুত, নেপালিদের ব্রিটিশ আমলে 'সামরিক জাতি' আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
49. ভারতে সিভিল সার্ভিসের জনক কাকে বলা হয়?
➛ লর্ড কর্নওয়ালিশকে ভারতে সিভিল সার্ভিসের জনক বলা হয়।
50. ভারতে ব্রিটিশ শাসনের 'ইস্পাত কাঠামো' কাকে বলা হত?
➛ ভারতে সিভিল সার্ভিসকে ব্রিটিশ শাসনের 'ইস্পাত কাঠামো' বলা হত।
51. কলকাতার কোন কলেজে সিভিল সার্ভেন্টদের প্রশিক্ষণ নিতে হত?
➛ কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে সিভিল সার্ভেন্টদের প্রশিক্ষণ নিতে হত।
52. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
➛ 1800 খ্রিস্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
53. কার আমলে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়?
➛ লর্ড কর্নওয়ালিশের আমলে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
54. হেইলবেরি কলেজ কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
➛ লন্ডনে হেইলবেরি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
55. ব্রিটিশ কোম্পানির আমলে তৈরি আইনগুলির বঙ্গানুবাদ কে করেন?
➛ ব্রিটিশ কোম্পানির আমলে তৈরি আইনগুলির বঙ্গানুবাদ করেন জোনাথান ডানকান।
56. বেনারসে হিন্দু কলেজ কে, কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
➛ 1791 খ্রিস্টাব্দে জোনাথান ডানকান বেনারসে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
57. কলকাতা মাদ্রাসা কে প্রতিষ্ঠা করেন?
➛ কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
58. কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
➛কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন উইলিয়াম জোনস।
59. এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
➛ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থগুলি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করা।
60. 'শ্রীরামপুর ত্রয়ী' কাদের বলা হত?
➛ 'শ্রীরামপুর ত্রয়ী' বলা হত খ্রিস্টান মিশনারি মার্শম্যান, ওয়ার্ড ও উইলিয়াম কেরিকে।
61. শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠায় কাদের নাম জড়িয়ে আছে?
➛ শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠায় 'শ্রীরামপুর ত্রয়ী' অর্থাৎ মার্শম্যান, ওয়ার্ড ও উইলিয়াম কেরির নাম জড়িয়ে আছে।
62. জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
➛ জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন আলেকজান্ডার ডাফ।
63. GCPI (জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
➛ 1823 খ্রিস্টাব্দে GCPI (জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠিত হয়।
64. কবে থেকে সরকারি চাকুরিতে ইংরেজি ভাষাজ্ঞানকে আবশ্যক বলে ঘোষণা করা হয়?
➛ 1844 খ্রিস্টাব্দ নাগাদ সরকারি চাকুরিতে ইংরেজি ভাষাজ্ঞানকে আবশ্যক বলে ঘোষণা করা হয়।
65. মেকলে ভারতবর্ষে কোন প্রকার শিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন?
➛ মেকলে ভারতবর্ষে পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন।
66. বাংলায় 'কাউন্সিল অফ এডুকেশন' কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
➛ বাংলায় 1843 খ্রিস্টাব্দে 'কাউন্সিল অফ এডুকেশন' প্রতিষ্ঠিত হয়।
67. স্যার চার্লস উড কে ছিলেন?
➛ স্যার চার্লস উড ছিলেন বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি।
68. বেথুন স্কুল কে প্রতিষ্ঠা করেন?
➛ স্যার ড্রিঙ্কওয়াটার বিটন বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
69. পাঁচসালা বন্দোবস্ত কবে থেকে চালু হয়?
➛ 1772 খ্রিস্টাব্দ থেকে পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু হয়।
70. পাঁচসালা বন্দোবস্ত আর কী নামে পরিচিত ছিল?
➛ পাঁচসালা বন্দোবস্ত ইজারাদারি বন্দোবস্ত নামে পরিচিত ছিল।
71. দশসালা বন্দোবস্ত কবে থেকে চালু হয়?
➛ 1790 খ্রিস্টাব্দ থেকে দশসালা বন্দোবস্ত চালু হয়।
72. কবে কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল?
➛ 1781 খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
73. কলকাতায় কবে এশিয়াটিক সোসাইটি স্থাপিত হয়?
➛ 1784 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি স্থাপিত হয়।
74. শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন কবে স্থাপিত হয়?
➛ 1800 খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন স্থাপিত হয়।
75. কবে জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন স্থাপিত হয়?
➛ 1830 খ্রিস্টাব্দে জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন স্থাপিত হয়।
76. বাংলায় কে ইজারাদারি ব্যবস্থা চালু করেন?
➛ ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলায় ইজারাদারি ব্যবস্থা চালু করেন।
77. পাঁচসালা বন্দোবস্ত কে চালু করেন?
➛ ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলায় পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
78. ভারতের প্রথম সার্ভেয়ার জেনারেল কে ছিলেন?
➛ ভারতের প্রথম সার্ভেয়ার জেনারেল ছিলেন জোনস রেনেল।
79. কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
➛ কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় 1817 খ্রিস্টাব্দে।
80. প্রথম কোথায় সুপ্রিমকোর্ট তৈরি করা হয়েছিল?
➛ প্রথম কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট তৈরি করা হয়েছিল।
81. পুলিশ থানা ব্যবস্থা কে চালু করেন?
➛ পুলিশ থানা ব্যবস্থা চালু করেন লর্ড কর্নওয়ালিস।
☞ (Class- 8) History MCQ Mock Test 👇
১. ইতিহাসের ধারণা
২. আঞ্চলিক শক্তির উত্থান
৩. ঔপনিবেশিক কৰ্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
৪. ঔপনিবেশিক অর্থনীতির চরিত্র
⬮ Click Here
৫. ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া : সহযোগিতা ও বিদ্রোহ
⬮ Click Here
৬. জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশ
⬮ Click Here
৭. ভারতের জাতীয় আন্দোলনের আদর্শ ও বিবর্তন
⬮ Click Here
৮. সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ
⬮ Click Here
৯. ভারতীয় সংবিধান : গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার
⬮ Click Here
- অধ্যায় : ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
- ইতিহাস (অষ্টম শ্রেণি)
- সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মার্ক ২/৩)
Q1. কোন কোন অঞ্চল মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অধীনস্থ ছিল?
➛ মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত অঞ্চলগুলির মধ্যে দক্ষিণ ভারতের বিরাট অংশ পড়েছিল। আজকের তামিলনাড়ু, কেরালা ও অস্ত্রপ্রদেশের বেশ কিছু অঞ্চলের পাশাপাশি কর্ণাটক ও দক্ষিণ উড়িষ্যার বেশ কিছু অঞ্চলও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই প্রেসিডেন্সির দুটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। গ্রীষ্মকালে ওটাকামুন্দ ও শীতকালে মাদ্রাজ।
Q2.কোন কোন অঞ্চল নিয়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি গড়ে উঠেছিল?
➛ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চল ছিল বাংলা প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীকালে পাঞ্জাব, উত্তর ও মধ্য ভারতের অঞ্চলসমূহ এবং গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা অঞ্চল বাংলা প্রেসিডেন্সির মধ্যে এসেছিল। কলকাতায় তৈরি হয়েছিল কোম্পানির ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ। তাই বাংলা প্রেসিডেন্সিকে 'ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ প্রেসিডেন্সিও' বলা হয়।
Q3. রেগুলেটিং অ্যাক্টের দুটি শর্ত লেখো।
➛ 1773 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট রেগুলেটিং অ্যাক্ট জারি করে। এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি শর্ত ছিল- ① কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব একজন গভর্নর জেনারেল ও চার সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিষদের (কাউন্সিল) হাতে ন্যস্ত হয়। ② গভর্নর জেনারেল বলে নতুন একটি পদ তৈরি করা হয়। ঠিক করা হয় বাংলার গভর্নরই হবেন গভর্নর জেনারেল। বাংলার গভর্নর জেনারেলের অধীনেই মাদ্রাজ ও বোম্বাইয়ের বাণিজ্যিক ঘাঁটিগুলির গভর্নররা থাকবেন। বাংলার গভর্নর জেনারেলের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এই আইনের ফলেই কলকাতা ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের রাজধানীতে পরিণত হয়।
Q4. পিটের ভারত শাসন আইনের লক্ষ্য উল্লেখ করো।
➛ 1773 খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তিত রেগুলেটিং অ্যাক্টের ত্রুটিগুলি দূর করা ও ভারতে কোম্পানির শাসনকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে 1784 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই আইনটি পাস করেন। 1785 খ্রিস্টাব্দের 1 জানুয়ারি আইনটি বলবৎ হয়। এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানির কার্যকলাপের ওপর ব্রিটেনের পার্লামেন্টের নজরদারি নিশ্চিত হয়েছিল।
Q5. ব্রিটিশ প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা কাকে বলে?
➛ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল আসলে একটি বাণিজ্যিক কোম্পানি। ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্যের স্বার্থে তারা কতগুলি ঘাঁটি তৈরি করেছিল। সেই ঘাঁটিগুলির মধ্যে ছিল মাদ্রাজ, বোম্বাই ও কলকাতা। এই তিনটি বাণিজ্যঘাঁটিকে কেন্দ্র করে যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তাকে বলা হয় ব্রিটিশ প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা। প্রতিটি রেসিডেন্সি তার নির্দিষ্ট এলাকায় কোম্পানির বাণিজ্যিক স্বার্থরক্ষা ও বাণিজ্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করত।
Q6. কীভাবে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি গড়ে উঠেছিল?
➛1611 খ্রিস্টাব্দে মসুলিপটনমকে ঘাঁটি করে ব্রিটিশ কোম্পানির কার্যকলাপ চলেছিল। পরে 1639 খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজে একটি বাণিজ্যিক ঘাঁটি বানায় কোম্পানি। মাদ্রাজপটনম গ্রামে সেন্ট জর্জ দুর্গও বানায় ব্রিটিশ কোম্পানি। ক্রমে সেন্ট জর্জ ও মাদ্রাজকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় সেন্ট জর্জ প্রেসিডেন্সি বা মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি।
Q7. 1820 দশক থেকে কোম্পানির সিপাহি বাহিনীর কাঠামোতে কী পরিবর্তন ঘটেছিল?
➛1820-র দশক থেকে সিপাহি বাহিনীর কাঠামোয় বেশ কিছু বদল দেখা দিতে থাকে। মারাঠা, মহীশূর অঞ্চলের পাহাড়ি উপজাতি ও নেপালি গুরখাদের সিপাহি বাহিনীতে নিয়োগ করা শুরু হয়। ফলে উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ ও রাজপুত কৃষকদের সুযোগসুবিধা কমতে থাকে। তার জন্য সিপাহি বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে থাকে।
Q8. ব্রিটিশ আমলে 'সামরিক জাতি' বলে কাদের অভিহিত করা হত?
➛ 1857 খ্রিস্টাব্দে সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতে তাদের সেনাবাহিনীর সংস্কারের দিকে মনোযোগ দিয়েছিল। এই সময় থেকে তারা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এদেশের তরুণদের নিয়োগ করার ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা এবং খাদ্যাভাসের প্রতি গুরুত্ব দেয়। সেই কারণে ভারতের জাঠ, রাজপুত, পাঠান, গুরখা তরুণদের ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে অধিকসংখ্যায় নিয়োগ হতে থাকে। ঔপনিবেশিক শাসকরা তাদের অধিক দক্ষ বলে মনে করত। উক্ত জাতিগুলির সেনারাই 'সামরিক জাতি' হিসেবে অভিহিত হত।
Q9. 'আইনের শাসন' বলতে কী বোঝো?
➛ 'আইনের শাসন' বলতে বোঝায় আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইন মেনে প্রশাসন পরিচালনা করা। একপ্রকার গণতান্ত্রিক প্রশাসন হল আইনের শাসন বা Rule of Law। লর্ড কর্নওয়ালিশ এদেশে প্রথম আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা করেন। ঔপনিবেশিক আমলে আইনের শাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি পার্থক্য সর্বদাই রেখে চলা হত। ইউরোপীয় ব্যক্তিদের বিচারের জন্য আলাদা আইন ও আদালত ছিল। এককথায় বাস্তবে আইনের শাসন এদেশে প্রবর্তিত হয়নি।
10. জোনাথান ডানকানের দুটি উদ্যোগ উল্লেখ করো।
➛ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে এদেশে শিক্ষা সংস্কারে যেসব ব্যক্তি উদ্যোগী হয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জোনাথান ডানকান। তিনি হেস্টিংসের সহযোগী ছিলেন বলেও উল্লেখ পাওয়া যায়।
ডানকানের উদ্যোগসমূহ: ① সুপ্রিমকোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি স্যার এলিজা ইম্পে যে আইনগুলি বানিয়েছিলেন সেগুলি 1783 খ্রিস্টাব্দে বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন জোনাথান ডানকান। ② 1791 খ্রিস্টাব্দে বেনারসে হিন্দু কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জোনাথান ডানকান।
Q11. এশিয়াটিক সোসাইটি কেন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল?
➛ উইলিয়াম জোনস 1784 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উদ্দেশ্যঃ ① প্রাচ্য শিক্ষার গবেষণা ও উন্নতি ঘটানো। ② সংস্কৃত ভাষায় লেখা বইগুলি ইংরেজিতে অনুবাদ করা। ③ ভারতে শিক্ষিত মানুষদের সঙ্গে ব্রিটিশদের বোঝাপড়া ভালো করা।
Q12. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে, কবে, কেন প্রতিষ্ঠা করেন?
➛ 1800 খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতে কর্মরত উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মচারীদের ভারতীয় ও প্রাচ্যভাষায় ভাষা, সংস্কৃতি, আইন ও রীতিনীতি শিক্ষাদান করা।.
Q13. রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী কোথায় ও কত খ্রিস্টাব্দে ইম্পিরিয়াল কোর্ট তৈরি হয়।
➛ রেগুলেটিং অ্যাক্ট (1773 খ্রিস্টাব্দ) অনুযায়ী 1774 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ইম্পিরিয়াল কোট তৈরি করা হয়।
Q14. ভারতের সুপ্রিমকোর্ট কবে স্বাপিত হয়? এর প্রথম প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
➛ ভারতের সুপ্রিমকোর্ট 1774 খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়। সুপ্রিমকোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি হন এলিজা ইস্পে।
Q15. কর্নওয়ালিশ কোড কী?
➛ লর্ড কর্নওয়ালিশ ব্রিটিশ কোম্পানির আইনগুলিকে সংহত করা এবং বিচারব্যবস্থাকে গতিশীল করার জন 1793 খ্রিস্টাব্দে আইনগুলিকে বিধিবদ্ধ করেন। এই কোডটিই 'কর্নওয়ালিশ কোড' নামে পরিচিত। এই আইনবিধির দ্বারা কর্নওয়ালিশ চেয়েছিলেন সরকারি কর্মচারীদের নিয়মানুবর্তিতা, কর্ম দক্ষতার বৃদ্ধি ঘটাতে। সরকারি কর্মচারীরা যাতে বাধ্যতামূলকভাবে এই আচরণ মেনে চলেন সেদিকে তাঁর নজর ছিল।
Q16. কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে আলোচনা করো।
➛ 1773 খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন অনুযায়ী 1774 খ্রিস্টাব্দে প্রথমে সুপ্রিমকোর্ট তৈরি হয় কলকাতায়। সেখানে একজন প্রধান বিচারপতি ও তিনজন বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছিল। ঠিক করা হয়েছিল, কেবল ভারতে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদেরই বিচার করবে এই কোর্ট। কিন্তু ক্রমশই সেই কোর্টের নানান কার্যকলাপকে ঘিরে ব্রিটিশ কোম্পানির সঙ্গে কোর্টের বিরোধিতা তৈরি হয়, 1781 খ্রিস্টাব্দে আইন করে ইম্পিরিয়াল তথা সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ার ও ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। বলা হয় যে, রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত কোনো মামলা সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ারে পড়বে না।
Q17. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিষ্কের দুটি উল্লেখযোগ্য কার্যাবলির উল্লেখ করো।
➛ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিষ্কের দুটি উল্লেখযোগ্য কাজ হল- ① বেন্টিষ্কের সময় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি কালেক্টর প্রভৃতি পদে আবার ভারতীয়দের নিয়োগ করা হয়। ② উত্তর ও মধ্য ভারতে সক্রিয় ঠগি দস্যুদের দমন করার জন্য কর্নেল স্লিম্যানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ বিভাগ তৈরি করেন বেন্টিঙ্ক। দ্রুতই স্লিম্যান ঠগি দস্যুদের দমন করেন।
Q18. কোম্পানির সিপাহি বাহিনী বলতে কী বোঝো?
➛ ঔপনিবেশিক শাসনে কোম্পানি গোড়া থেকেই সেনাবাহিনী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। সেক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানি মোগলদের সেনা নিয়োগের রীতি অনুসরণ করেছিল। যার ফলে উত্তর ভারতে কৃষকদেরও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হত। এই বাহিনীকে সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা রাখা হত, সেই প্রথা মেনেই কোম্পানিও নিজের ভারতীয় সেনা বা সিপাহি বাহিনী তৈরি করেছিল।
Q19. 'চুঁইয়ে পড়া নীতি' কী?
➛ জনশিক্ষা কমিটির সভাপতি লর্ড মেকলে তাঁর এক প্রস্তাবে লর্ড বেন্টিঙ্ককে বলেন যে, জল যেভাবে ওপর থেকে নীচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, ভারতে উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটলে তা ক্রমশ সাধারণ দেশবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। মেকলের এই নীতি 'চুঁইয়ে পড়া নীতি' নামে পরিচিত।
Q20. 1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনের দুটি গুরুত্বের কথা উল্লেখ করো।
➛ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়া 1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইন ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল- ① এই সনদ আইনে প্রথম ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য বার্ষিক এক লক্ষ টাকা ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। ② ভারতীয়দের শিক্ষার অর্থাৎ জনশিক্ষার দায়িত্ব কোম্পানির সরকারের এ কথা স্বীকৃত হয়।
Q21. টীকা লেখো: ডেভিড হেয়ার।
➛ বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে ডেভিড হেয়ারের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল-① তিনি হিন্দু কলেজ (1817 খ্রিস্টাব্দ) প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন। ② বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচনার উদ্দেশ্যে 'ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি' এবং বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য 'ক্যালকাটা * স্কুল সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন। ③ 1835 খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে এবং নারী শিক্ষা প্রসারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।
Q22. নারী শিক্ষা বিস্তারে বেথুন-এর অবদান লেখো।
➛ বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে ড্রিঙ্কওয়াটার বিটন (বেথুন) এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল-① তিনি ইংরেজি এবং বাংলা উভয় মাধ্যমে শিক্ষার উপর জোর দেন। ② নারীদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে 1849 খ্রিস্টাব্দের 7 মে হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় (বর্তমান বেথুন স্কুল) এবং একটি মহিলা কলেজ (বর্তমান বেথুন কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলায় স্ত্রী শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে তাঁর নাম। চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Q23. হান্টার কমিশন কী?
➛ ভারতে উচ্চশিক্ষার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য 1882 খ্রিস্টাব্দে স্যার উইলিয়াম হান্টার নামে এক শিক্ষাবিদের নেতৃত্বে ভারত সরকার একটি কমিশন নিয়োগ করেন। এটি 'হান্টার কমিশন' নামে পরিচিত। 1883 খ্রিস্টাব্দে এই কমিশন তার রিপোর্টে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপসহ মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষার উন্নতকরণ, আর্থিক সাহায্য দান এবং স্ত্রী শিক্ষায় উৎসাহ দানের সুপারিশ করেন।
Q24.মেকলে মিনিট বা মেকলে প্রস্তাব কী?
➛ ভারতে উচ্চশিক্ষার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য 1882 খ্রিস্টাব্দে স্যার উইলিয়াম হান্টার নামে এক শিক্ষাবিদের নেতৃত্বে ভারত সরকার একটি টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ছিলেন গভর্নর জেনারেল লর্ড বেন্টিঙ্কের পরিষদের আইন সদস্য এবং পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কমিটির সভাপতি। ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের জন্য 1835 খ্রিস্টাব্দের 2 ফেব্রুয়ারি মেকলে একটি প্রতিবেদন বা মিনিট পেশ করেছিলেন। তাঁর নামানুসারে এটিকে 'মেকলে মিনিট' বা মেকলে প্রতিবেদন বলা হয়।
Q25. কোম্পানি শাসনে জরিপের ক্ষেত্রে জেমস রেনেল-এর কী ভূমিকা ছিল?
➛ ব্রিটিশ কোম্পানি এদেশে জমি জরিপ করে রাজস্ব নির্ধারণের পক্ষপাতি ছিলেন। ① নদীপথ জরিপ: 1764 খ্রিস্টাব্দে বাংলার নদীপথগুলি জরিপ করে রেনেল মোট 16টি মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। সেই প্রথম সেই আমলের বাংলার নদী গতিপথের মানচিত্র বানানো হল। ② জরিপ বিভাগের প্রধান: জেমস রেনেল 1767 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ কোম্পানি ভারতের সার্ভেয়ার জেনারেল বা জরিপ বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োজিত হন।
Q26. কমিটি অফ রেভেনিউ কেন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল?
➛ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় জমি জরিপ করে রাজস্ব নির্ধারণ করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। 1770 খ্রিস্টাব্দে মুরশিদাবাদে কম্পট্রোলিং কাউন্সিল অফ রেভেনিউ বোর্ড তৈরি করা হল। তাছাড়া আরও একটি আলাদা রেভেনিউ বোর্ড তৈরি করা হল। তার নাম কমিটি অফ রেভেনিউ। কমিটি অফ রেভেনিউ মূলত রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে দেখাশোনা করত।
Q27. শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন সম্পর্কে কী জানো?
➛1800 খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুরে মার্শম্যান, কেরি ও ওয়ার্ড ব্যাপটিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য তাঁরা শ্রীরামপুরে বাংলা ও অন্যান্য 26টি ভারতীয় ভাষায় বাইবেলের অনুবাদ করেন। নিজেদের মুদ্রণযন্ত্র বসিয়ে তারা বাংলা ভাষায় বিভিন্ন লেখা ছাপতে শুরু করেন। তাঁরা দিগ্দর্শন ও সমাচারদর্পণ পত্রিকা প্রকাশ করেন 1818 খ্রিস্টাব্দে। তাঁদের উদ্যোগে শ্রীরামপুর কলেজও 1818 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।
Q28. উইলিয়াম কেরি কে ছিলেন?
➛ শ্রীরামপুরের মিশনারিদের মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য ছিলেন উইলিয়াম কেরি। তিনি ভারতীয় মহাকাব্যগুলিকে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেন। তা ছাড়া বাইবেলের একটি অংশকে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন কেরি। 1778 খ্রিস্টাব্দে ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হালেদের বা হ্যালহেডের লেখা বাংলা ব্যাকরণ বিষয়ক বইটিকেও সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছিলেন কেরি। তিনি শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি বাংলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।
Q29. জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন (1823) গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
➛ ব্রিটিশ কোম্পানি সরকার 1823 খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম শিক্ষাখাতে খরচের জন্য এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। সেই অনুসারে 1823 খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ ও পরামর্শ দানের জন্য গঠিত হয় 'জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন'। এই কমিটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন প্রাচ্যবাদী ব্রিটিশ পন্ডিত এইচ. এইচ. উইলসন। এই কমিটির একটি প্রস্তাবে আরও দুটি সংস্কৃত কলেজ ও একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল।
Q30. টাকা লেখো: 1813 খ্রিস্টাব্দের চার্টার আইন।
➛ 1813 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ পালামেন্টে পাস হওয়া চার্টার বা সনদ আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই আইন দ্বারা- ① ব্রিটিশ কোম্পানিকে ভারত শাসনের অধিকার প্রদান করা হয়। ② ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নতির জন্য বাৎসরিক এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। ③ ইংরেজদের ভারতে জমি ক্রয় করার ও স্থায়ীভাবে বসবাস করার অনুমতি দেওয়া হয়। ④ এদেশে ব্রিটিশ কোম্পানির সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীগণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়।
Q31. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব বলতে কী বোঝো?
➛ 1813 খ্রিস্টাব্দের চার্টার অ্যাক্ট বা সনদ আইনে বলা হয়, ব্রিটিশ কোম্পানি ভারতীয় শিক্ষার জন্য বছরে এক লক্ষ টাকা ব্যয় করবে। এই অর্থ কোন শিক্ষাখাতে ব্যয় হবে তা নিয়ে জনশিক্ষা কমিটির সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং তারা দু-ভাগে ভাগ হয়ে যায়-প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী।
- প্রাচ্যবাদীঃ এইচ. টি. প্রিন্সেপ, কোলব্রুক, উইলসন প্রমুখ এদেশে প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য ও দর্শন বিষয়ে শিক্ষাদানের পক্ষপাতী ছিলেন। এরা ছিলেন প্রাচ্যবাদী।
- পাশ্চাত্যবাদী: অন্যদিকে মেকলে, সন্ডার্স, কেলভিন, আলেকজান্ডার ডাফ প্রমুখ এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তনের দাবি জানান। এরা ছিলেন পাশ্চাত্যবাদী। উভয় পক্ষের মধ্যেকার এই দ্বন্দ্ব প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী দ্বন্দ্ব নামে পরিচিত।
Q32. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে 1844 খ্রিস্টাব্দ কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
➛ বড়োলাট লর্ড হার্ডিঞ্জ 1844 খ্রিস্টাব্দে ঘোষণা করেছিলেন যে, সরকারি চাকরিতে ইংরেজি জানা ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই ঘোষণার ফলে মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজে ইংরেজি শিক্ষায় প্রবল আগ্রহ দেখা দেয় এবং দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সমাধি রচিত হয়।
Q33. কর্নওয়ালিশের বিচার বিভাগীয় সংস্কারগুলি লেখো।
অথবা, কোম্পানি পরিচালিত আইন ব্যবস্থাকে সংহত করার ক্ষেত্রে লর্ড কর্নওয়ালিশ কী ভূমিকা নিয়েছিলেন?
➛ বাংলার গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ 1793 খ্রিস্টাব্দে প্রচলিত আইনগুলিকে সুসংহত করে কোড বা বিধিবদ্ধ আইন চালু করেছিলেন। তিনি আইন ব্যবস্থাকে সংহত করার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন সেগুলি হল-
① দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব আলাদা করা।
② জেলা থেকে সদর পর্যন্ত আদালত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো।
③ নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আবেদনের অধিকার দেওয়া।
④ সমস্ত আদালতে প্রধান বিচারপতি হতেন ইউরোপীয়রাই।
লর্ড কর্নওয়ালিশের বিচারব্যবস্থার সংস্কার বাস্তবে ঔপনিবেশিক বিচার কাঠামো থেকে ভারতীয়দের পুরোপুরি বাদ দিয়েছিল।
Q34. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিষ্কের শাসন সংস্কারগুলি কী কী?
➛ ভারতে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনে উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের শাসনকাল এক গৌরবময় অধ্যায়। তিনিই ভারতে প্রথম প্রজাকল্যাণকারী শাসন সংস্কার ও সুসংহত বিচার সংস্কারের উদ্যোগ নেন। ① বেন্টিঙ্কের আমলে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি কালেক্টর প্রভৃতি পদে ভারতীয়দের নিয়োগ করা শুরু হয়। ② ব্রিটিশ কোম্পানিতে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতিধর্মবর্ণের পরিবর্তে শুধুমাত্র যোগ্যতা বিচার করবে এই নীতি চালু করার কথা বলা হয়। ③ ঠগি দস্যুদের দমনের উদ্দেশ্যে বেন্টিঙ্ক একটি বিশেষ বিভাগ তৈরি করেন।
Q35. টীকা লেখো: উডের নির্দেশনামা (1854 খ্রিস্টাব্দ)।
➛ বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের জন্য 1854 খ্রিস্টাব্দের 19 জুলাই একটি নির্দেশনামা প্রকাশ করেন। এই নির্দেশনামা চার্লস উডের প্রতিবেদন নামে খ্যাত।
চার্লস উডের সুপারিশ: উডের নির্দেশনামা বা প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য ① শিক্ষার প্রসারের জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষা বিভাগ গঠন করা। ② প্রত্যেক প্রেসিডেন্সি শহরে যথা কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। ③ দেশীয় ভাষার মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষা প্রদান। ④ সুদক্ষ শাসক তৈরির জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বা টিচার্স ট্রেনিং-এর কলেজ স্থাপন করা। ⑤ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজ প্রতিষ্ঠা। ⑥ নারী শিক্ষার প্রসার। ⑦ ডিরেক্টর অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন পদ সৃষ্টি। ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে এটি ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এজন্য উডের নির্দেশনামাকে শিক্ষার মহাসনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
Q36. 'ইজারাদারি ব্যবস্থা' বলতে কী বোঝো?
➛ ব্রিটিশ কোম্পানি বাংলা প্রেসিডেন্সির দেওয়ানি ক্ষমতা লাভের পর ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত নিয়ে নানান পরীক্ষানিরীক্ষা চালায়। সেই পরীক্ষানিরীক্ষার অন্যতম ছিল ইজারাদারি ব্যবস্থা। 1772 খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে ওয়ারেন হেস্টিংস নদিয়া জেলায় একটি নতুন ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত চালু করেন। সেই বন্দোবস্ত অনুযায়ী যে ব্যক্তি জমির নিলামে সবথেকে বেশি খাজনা দেওয়ার ডাক দেবে তার সঙ্গে কোম্পানি ওই জমির বন্দোবস্ত করবে। পাঁচ বছরের জন্য ওই জমি ওই ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হত বলে ওই বন্দোবস্তকে ইজারাদারি বন্দোবস্ত বলা হত। তার পাশাপাশি ইজারার মেয়াদ পাঁচ বছরের জন্য ছিল বলে তাকে পাঁচসালা বন্দোবস্ত বলা হত।
Q37. রেগুলেটিং অ্যাক্ট কী?
অথবা, রেগুলেটিং অ্যাক্ট জারি করা হয়েছিল কেন?
➛ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাংলার নবাবদের যুদ্ধে হারিয়ে কোম্পানি বাংলার পরোক্ষ নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছিল। 1765 খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করলে বাংলায় কোম্পানি ও নবাবের 'দ্বৈতশাসন' শুরু হয়। যার পরিণামে বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর দেখা দেয়। ব্রিটিশ বুদ্ধিজীবীরা ভারতে কোম্পানির কাজের ওপর পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণের দাবি তোলেন। ফলে ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানির বণিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ওপর ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার লক্ষ্যে 1773 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হয়।
Q38. টীকা লেখো: পিটের ভারত শাসন আইন।
➛ 1784 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট রেগুলেটিং অ্যাক্টের ত্রুটিগুলি দূর করা ও ভারতে কোম্পানির শাসনকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করেন। এটি পিটের ভারত শাসন আইন নামে পরিচিত 1785 খ্রিস্টাব্দে 1 জানুয়ারি এই আইনটি বলবৎ হয়। এই আইনে বলা হয়েছে যে, ① গভর্নর জেনারেলের পরিষদের সংখ্যা চারজন থেকে কমিয়ে তিনজন করা হল। ② 6 জন কমিশনার নিয়ে লন্ডনে গঠিত 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' নামে একটি পরিষদের হাতে কোম্পানির ভারত শাসন তত্ত্বাবধানের ভার দেওয়া হয়। ③ গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা ও পদমর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সির ওপর কলকাতা প্রেসিডেন্সির নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করা হয়। ④ কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীগণ ভারত থেকে স্বদেশে ফিরে আসার সময় কী পরিমাণে টাকা নিয়ে আসছে তার হিসাব দাখিল করতে বলা হয়।
Q1. ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিশের বিচারব্যবস্থার সংস্কারের তুলনামূলক আলোচনা করো। ওই সংস্কারগুলির প্রভাব ভারতীয়দের ওপর কীভাবে পড়েছিল?
➛ ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিশ দুজনেই ছিলেন এদেশের বিখ্যাত গভর্নর জেনারেল। উভয়েই বিচারবিভাগে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। এদের বিচার সংস্কারের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুই-ই দেখা যায়।
❐ সাদৃশ্য: ① মোগল প্রভাব থেকে মুক্তি: ওয়ারেন হেস্টিংস ও কর্নওয়ালিশ উভয়েরই লক্ষ্য ছিল- ভারতের বিচারব্যবস্থাকে মোগল আমলের প্রভাবমুক্ত করে আধুনিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। ② উচ্চ আদালতে আপিলের ব্যবস্থা: হেস্টিংস ও কর্নওয়ালিশ উভয়েই মফস্সল দেওয়ানি ও মফস্সল ফৌজদারি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিলের ব্যবস্থা করেন। ③ ইউরোপীয় বিচারকদের কর্তৃত্ব বৃদ্ধি: উভয়ের লক্ষ্য ছিল বিচারব্যবস্থায় ভারতীয় বিচারকদের বদলে ইউরোপীয় বিচারকদের কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করা। ④ আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা: হেস্টিংস এদেশে 'Rule of Law' বা আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার দানের চেষ্টা করেন। কর্নওয়ালিশও একই ব্যবস্থা চালু রাখতে উদ্যোগী ছিলেন। ⑤ ভারতীয় সহকারীদের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস: ভারতে প্রচলিত হিন্দু ও মুসলিম আইনবিধিকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে ভারতীয় সহকারীদের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করার ক্ষেত্রে উক্ত দুজনেই সচেষ্ট হয়েছিলেন।
❐ বৈসাদৃশ্য:
✱ হেস্টিংসের সংস্কার : ① হেস্টিংস সদর নিজামত আদালত মুরশিদাবাদে স্থাপন করেছিলেন। সেখানকার বিচারের ভার ছিল নবাব এবং নবাবের প্রতিনিধি বা প্রধান কাজির ওপর। ② হেস্টিংস প্রতি জেলায় একটি করে মফস্সল ফৌজদারি আদালত স্থাপন করেছিলেন। ③ হেস্টিংস সামগ্রিকভাবে আইনগুলিকে বিধিবদ্ধ করেননি। ④ হেস্টিংসের আমলের কালেক্টররা হিন্দু পণ্ডিত ও মুসলমান কাজির সাহায্য নিয়ে বিচার করতেন।
✱ কর্নওয়ালিশের সংস্কার : ① কর্নওয়ালিশ সদর নিজামত আদালতকে মুরশিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করেন। সেখানকার বিচারের ভার ছিল গভর্নর জেনারেলের হাতে ② কর্নওয়ালিশ, কলকাতা, ঢাকা, মুরশিদাবাদ ও পাটনায় চারটি ভ্রাম্যমান আদালত স্থাপন করেন। ③ কর্নওয়ালিশ আইন বিধিবদ্ধ করে বিচারব্যবস্থার শাখাগুলিকে পৃথক করার ব্যবস্থা করেন। ④ কর্নওয়ালিশের আমলে সমস্ত আদালতেই প্রধান বিচারপতি হতেন ইউরোপীয়রাই। কালেক্টরের পরিবর্তে 'জজ'দের বিচারক পদে নিয়োগ করা হত।
❐ ভারতীয়দের ওপর প্রভাব: ইংরেজ আমলের এইসব বিচারবিভাগীয় সংস্কারগুলি ভারতীয়রা ভালোভাবে নেননি। বিচারে ধর্মীয় আইনের ছাপ কিছুটা কমে যায়। উপজাতি ও কৃষক শ্রেণি এই নতুন বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। তা ছাড়া বিচারব্যবস্থা ব্যয়বহুল হয়ে যায়। যদিও এই সংস্কারের ফলে আধুনিক বিচারব্যবস্থার সুযোগ ভারতীয়রা লাভ করেন।
Q2. কর্নওয়ালিশের শাসন ও বিচারবিভাগীয় সংস্কারগুলি লেখো।
❐ ভূমিকা : হেস্টিংসের পর ভারতে আগত গভর্নর জেনারেলদের মধ্যে কর্নওয়ালিশ অন্যতম ছিলেন। বলা হয় যে কর্নওয়ালিশই আধুনিক ভারতীয় শাসনতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করেন। তাই ঐতিহাসিক রবার্টস মন্তব্য করেছেন- খুব কমজনই কর্নওয়ালিশের তুলনায় অধিক স্থায়ী কাজের নমুনা উপস্থিত করতে পারতেন (Few were des-tined to do more permanent work than Lord Cornwallis)
❐ শাসনসংক্রান্ত সংস্কার: ① কর্নওয়ালিশ হেস্টিংসের তৈরি 35টি জেলাকে পুনর্বিন্যাস করে প্রথমে 23টি ও পরে 14টি জেলায় পরিণত করেন। তিনি প্রথম দিকে কালেক্টরদের ওপর জেলার রাজস্ব আদায়, বিচারকার্য পরিচালনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেন। কিন্তু এরা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে তাদের ওপর কেবল রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বই ন্যস্ত করেন। ② জেলা শাসনের জন্য তিনি জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি কালেক্টর প্রভৃতি কর্মচারী নিয়োগ করেন। জেলার শাসনকার্য তদারকি করার জন্য তিনি বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ করেন।
❐ বিচারবিভাগীয় সংস্কার: বিচারবিভাগীয় সংস্কারের জন্য কর্নওয়ালিশ নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করেছিলেন। ① তিনি সদর, নিজামত, আদালত মুরশিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করেন। ② জেলায় ফৌজদারি আদালত তুলে দিয়ে তিনি কলকাতা, ঢাকা, মুরশিদাবাদ ও পাটনায় চারটি ভ্রাম্যমান আদালত প্রতিষ্ঠা করেন। এইসব আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সদর নিজামত আদালতে আপিল করা যেত। ③ প্রত্যেক জেলায় দেওয়ানি আদালতে কালেক্টরের পরিবর্তে 'জজ' উপাধিধারী ইংরেজ বিচারকরা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। বিচারের ক্ষেত্রে কাউকেই তিনি আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি। ④ তিনি বেত্রদণ্ড, অঙ্গচ্ছেদ প্রভৃতি অমানবিক দণ্ডদান প্রথা নিষিদ্ধ করেন।
❐ উপসংহার : ভারতের শাসক হিসেবে লর্ড কর্নওয়ালিশ এদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানাবিধ সংস্কারকার্য করেছিলেন। তাঁর ওই সংস্কারমূলক কার্যাবলির মধ্যে অন্যতম ছিল শাসন ও বিচারবিভাগীয় সংস্কার। এই দুটি ক্ষেত্রে তাঁর কৃতিত্ব অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ।
Q3. ব্রিটিশ কোম্পানির প্রশাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা কী ছিল? কীভাবে আমলারা একটি সংকীর্ণ গোষ্ঠী হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল?
❐ ভূমিকা : লর্ড কর্নওয়ালিশের আমলে এদেশে একটি সুসংগঠিত আমলাতন্ত্র গড়ে উঠেছিল। অসামরিক শাসনব্যবস্থায় ব্রিটিশ আমলে আমলারাই ছিল 'ইস্পাত কাঠামো'। সরকারি নীতিগুলি সমানভাবে প্রয়োগ করাই ছিল এদের প্রধান কাজ।
❐ ব্রিটিশ কোম্পানির প্রশাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা : ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় এদেশে আমলাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সেগুলি নিন্মে আলোচনা করা হলো ―
① নীতি নির্ধারণ: স্বাধীনভাবে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমলাদের স্বাধীনতা ছিল না। ইংরেজ সরকারের গৃহীত নীতিগুলি প্রয়োগ করাই ছিল আমলাদের কাজ। ফলে একটি সংগঠিত আমলাতন্ত্র ঔপনিবেশিক শাসনের পক্ষে অত্যন্ত, জরুরি ছিল।
② দুর্নীতি দূরীকরণ: ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে দুর্নীতি দূর করার জন্য আমলাদের নিয়োগ করা হয়েছিল। কর্নওয়ালিশের ধারণা ছিল উপযুক্ত বেতন না পাওয়ার ফলেই কোম্পানির কর্মচারীরা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে না। ফলে তিনি আইন জারি করে কোম্পানি প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যবসা ও কোনওরকম উপহার দেওয়া বন্ধ করে দেন।
③ ভারতীয়দের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা: লর্ড কর্নওয়ালিশ কোম্পানির আমলা পদে ভারতীয়দের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। কেবল ইউরোপীয়রাই এই পদে নিয়োগ পেতেন।
④ ভারতীয়দের পরীক্ষার্থীদের অসহায়তা: সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা হত লন্ডনে। পরীক্ষার্থীর সর্বোচ্চ বয়স সীমা ছিল কখনো 21 কখনো বা 19। এত কম বয়সে লন্ডনে গিয়ে ভারতীয়দের পক্ষে এই পরীক্ষায় বসা ছিল প্রায় অসম্ভব। তাই পরবর্তীকালে 1853 খ্রিস্টাব্দের আইনে ভারতীয়দের আমলা পদে নিয়োগের অধিকার এলেও তা পাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব।
❐ সংকীর্ণ গোষ্ঠী হিসেবে আমলাদের ঐক্যবদ্ধতা : সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সমস্ত প্রার্থীদেরকেই হেইলবেরি কলেজে যোগ দিতে হত। একই কলেজে পড়ার ফলে সিভিল সার্ভেন্ট বা আমলাদের মধ্যে একটি ঐক্যবোধ তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি আমলারা নিজেদের একটি আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে ভাবতে শুরু করে। ওই ঐক্যবদ্ধ ও সংকীর্ণ গোষ্ঠী ভাবনা অবশ্য ঔপনিবেশিক প্রশাসনের পক্ষে সহায়ক হয়েছিল।
Q4. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে মিশনারিদের উদ্যোগ আলোচনা করো।
❐ পাশ্চাত্য শিক্ষা বলতে এককথায় বোঝায় পাশ্চাত্যের অর্থাৎ ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা-চিকিৎসাবিদ্যা প্রভৃতিকে। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে এই পাশ্চাত্য শিক্ষা ধীরে ধীরে অভিসিক্ত হয়েছিল। ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে মিশনারিদের উদ্যোগ মিশনারি বলতে বোঝায় যেসব ইউরোপীয় ভারতবর্ষে ধর্মপ্রচারের জন্য এসেছিল। ধর্মপ্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মিশনারীরা-এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারেও অগ্রণী ছিলেন। যেমন―
① পোর্তুগিজ মিশনারি: পাশ্চাত্য শিক্ষারবিস্তারে পোর্তুগিজ মিশনারি সেন্ট জেভিয়ার ও রবার্ট-ডি-নোবিলির নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। পোর্তুগিজরাই ভারতের গোয়াতে প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করে।
② ফরাসি মিশনারি : চন্দননগর, মাহে, পন্ডিচেরি প্রভৃতি জায়গাতে, ফরাসি মিশনারিরা নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয় স্থাপন করেছিল। এখানে বিনামূল্যে বই ও খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
③ দিনেমার মিশনারি : দিনেমার মিশনারিদের মধ্যে জিগেন বার্লা ও প্লুসো এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
④ শ্রীরামপুর ত্রয়ী: ভারতে শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ডের নাম উল্লেখ না করে পারা যায় না। এদেরই উদ্যোগে 1800 খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারেও এরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।
❐ উপসংহার: উক্ত উদ্যোগগুলি আলেকজান্ডার ডাফ, ডেভিড হেয়ার, উইলয়িাম জোনস প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ এবং বেলজিয়াম থেকে আগত জেসুইট মিশনারি ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের নামও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
Q5. উডের ডেসপ্যাচ সম্বন্ধে লেখো। এর ফলাফল কী হয়েছিল?
❐ প্রথম দিকে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে ব্রিটিশ কোম্পানির নানারকম দোলাচলতা ছিল। 'চুঁইয়ে পড়া নীতি'র ব্যর্থতা ও মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে দেশের শিক্ষাবিদগণ এসময় ধীরে ধীরে অবহিত হন। 1854 খ্রিস্টাব্দের 19 জুলাই বোর্ড অফ কনট্রোলের সভাপতি স্যার চার্লস উড শিক্ষা সংক্রান্ত যে নির্দেশনামা প্রকাশ করেন, তা 'উডের ডেসপ্যাচ' নামে পরিচিত। এই কমিশনের সুপারিশগুলি ছিল-
❐ উডের ডেসপ্যাচের সুপারিশসমূহ :
① শিক্ষা প্রসারের জন্য পৃথক শিক্ষা দফতর প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
② কলকাতা, বোম্বাই, মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা প্রয়োজন।
③ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নারী শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি দরকার।
④ শিক্ষক-শিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার।
⑤ বিদ্যালয়গুলিকে সরকারি সাহায্য বা অনুদান দেওয়া দরকার।
⑥ ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
⑦ দেশীয় ভাষা ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার বিস্তার প্রয়োজন।
❐ ফলাফল: উডের সুপারিশ অনুসারে 1855 খ্রিস্টাব্দে সরকারি শিক্ষা দফতর খোলা হয়। এ ছাড়া এই সুপারিশ অনুসারে 1857 খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। শুধু তাই নয়, এর ফলে বহু বিদ্যালয় সরকারি অনুদান পায় এবং ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার দ্রুত প্রসার ঘটে।
❐ উপসংহার : ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে উডের ডেসপ্যাচকে 'ভারতে ইংরেজি শিক্ষার মহাসনদ' রূপে অভিহিত করা হয়। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এদেশে শিক্ষার ইতিহাসে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
__________

